জুলাই সনদের বাইরে যে কোন সিন্ধান্ত সরকারে উপর বর্তাবে- খন্দকার মোশারফ 

‘জুলাই সনদের বাইরে যে কোনো সিদ্ধান্তের দায় সরকারের ওপরেই বর্তাবে’ বলে জানিয়েছে বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন।

জুলাই সনদের বাইরে যে কোন সিন্ধান্ত সরকারে উপর বর্তাবে- খন্দকার মোশারফ 

‘জুলাই সনদের বাইরে যে কোনো সিদ্ধান্তের দায় সরকারের ওপরেই বর্তাবে’ বলে জানিয়েছে বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন।

মঙ্গলবার দুপুরে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটি  এই সিদ্ধান্তের কথা জানান খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, জুলাই সনদের বিষয়াদির বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো দলের জন্য তা মান্য করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। সে ক্ষেত্রে সকল দায় দায়িত্ব সরকারের উপরই বর্তাবে।” এই ব্যাপারে সর্তক পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

‘উপদেষ্টাদের কারো কারো বক্তব্য বিভ্রান্তিকর’ খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘‘ সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে কোন কোন বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের ঘোষণা প্রসঙ্গে যে সকল বক্তব্য দিচ্ছেন তা বিভ্রান্তিকর এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করার শামীল।”

গতকাল সোমবার রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এই বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তির  বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তা জানাতে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘‘ জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যে প্রস্তাব গ্রহীত হয়েছে তা হলো রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ প্রায় এক বছর যাবৎ আলোচনার ভিত্তিতে কতিপয় নোট অফ ডিসেন্টসহ ঐকমত্যের ভিত্তিতে রচিত জুলাই জাতীয় সনদ বিগত ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয় এবং দেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তা বাস্তবায়নে সকলে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।”

এক প্রশ্নের জবাবে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘ জুলাই জাতীয় সনদ  ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই সনদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দফায় কিছু নোট অফ ডিসেন্ট আছে, সেই নোট অফ ডিসেন্ট গুলোর ক্ষেত্রে বলাও আছে সনদে যে, দলগুলো যদি নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পায় নোট অফ ডিসেন্টগুলো তারা সেভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে। ”

এখানে আমরা  একশত ভাগ একমত, এখনো আমরা সেই জায়গায় আছি এবং আমরা স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে নাই। কিন্তু যেভাবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে সনদ বাস্তবায়নের উপায় সংক্রান্ত যে সুপারিশ প্রদান করেছে তার মধ্যে নোট অফ ডিসেন্ডার অংশগুলো উল্লেখিত নাই….একদম নেই। শুধু প্রস্তাবগুলোর ব্যাপারে  ৪৮টা দফা দিয়ে তারা একটা তফসিল করেছে। সেই তফসিলে প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে গণভোটের প্রস্তাব করেছে।”

তিনি বলেন, ‘‘ গণভোটের বিষয়ে আমরা একটা জাতীয় ঐকত্যের স্বার্থে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেয়ার জন্য জুলাই জাতীয় সনদের উপরে আমরা রাজি হয়েছিলাম …সেই জায়গায় আমরা আছি।”

এখন এই স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে গিয়ে কোন কোন রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যে অযৌক্তিক এবং নতুন নতুন ইস্যু নিয়ে  আন্দোলন করছে সে ব্যাপারে তারা বক্তব্য প্রদান করতে পারেন। এর বাইরে আমরা সনদের স্বাক্ষরিত যে বিষয়গুলো আছে তার বাইরে যদি সরকার কোন সিদ্ধান্ত নিতে যায় সেটা কোন রাজনৈতিক দল যারা সমাজে।